দুজন মানুষ একই খাবার খেলেন। কিন্তু তাঁদের শরীর সেই খাবারটাকে একদম ভিন্নভাবে গ্রহণ করল।
আপনি হয়তো আপনার ডায়েট বদলেছেন। ক্যালরি গুনেছেন, খাওয়া কমিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকেছেন। কিন্তু এত চেষ্টার পরও ফলাফল মিলছে না, আর আপনি মনে মনে ভাবছেন, আপনার সাথেই বা কেন এমন হচ্ছে।
হয়তো আপনার কোনো সমস্যাই নেই। হয়তো আপনার মেটাবলিজম শুধু আপনার মেনুর খাবারের হিসাবই রাখছে না, আরও অনেক কিছুর খোঁজখবর নিচ্ছে।
চিকিৎসকদের সাথে বছরের পর বছর কাজ করে আমি যা দেখেছি: শরীর শক্তি তৈরি বা খরচের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে না; সে ঘুম, মানসিক চাপ, নড়াচড়া আর মেজাজও বিচার করে। যে শরীর পর্যাপ্ত ঘুম পায়নি, তা শক্তি একভাবে সঞ্চয় করে। মানসিক চাপে থাকা শরীর শক্তি অন্যভাবে খরচ করে।
মেটাবলিজম আসলে কোনো জ্বলন্ত চুল্লি নয়, বরং এটি একজন হিসেবরক্ষকের মতো। আর পরিস্থিতি যখন অনিশ্চিত হয়, তখন হিসেবরক্ষকরা সবকিছুরই কাটছাঁট করেন।
দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ হিসেবরক্ষককে বলে: সঞ্চয় ধরে রাখো। আর অপর্যাপ্ত ঘুম তাকে নির্দেশ দেয়: দ্রুত শক্তির জোগান দাও — যা সাধারণত বিকেলবেলা মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছে হয়ে দেখা দেয়। বোর্ডরুমের কাজের চাপের দায় শেষমেশ গিয়ে পড়ে খাবারের প্লেটের ওপর।
খাবারের বাইরে আর কী কী বার্তা আপনার শরীরকে দেওয়া হচ্ছে?
দিনের একটা বেলা অন্তত মোবাইল বা টিভির স্ক্রিন ছাড়া খাবার খান। শুধু এইটুকুই। হজমের কাজ শুরুই হয় মনোযোগ থেকে — শান্ত পরিবেশে খাওয়া খাবার আর হঠাৎ চাপের মধ্যে খাওয়া খাবার শরীর ভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে।
কারণ ছাড়াই ওজন কমা বা বাড়া, সব সময় তেষ্টা পাওয়া, বা হঠাৎ করে শরীরে শক্তি না থাকার মতো লক্ষণ দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। সঠিক সময়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করানোই বুদ্ধির কাজ।

