তাঁর রিপোর্টগুলো ছিল নিখুঁত। আয়রন, থাইরয়েড, ভিটামিন — সবই স্বাভাবিক। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তাহলে আমি সবসময় এত ক্লান্ত থাকি কেন?"

আপনি ব্যায়াম করেন। পরিমিত খাবার খান। পরীক্ষার রিপোর্টও বলছে আপনি সুস্থ। কিন্তু আপনার ক্লান্তি যেন সে কথা মানতে নারাজ।

আমার কাছে আসা মানুষদের সঙ্গে এটি সবচেয়ে সাধারণ কথোপকথনগুলোর একটি।

আমি যা বুঝতে পেরেছি তা হলো: ক্লান্তি মানেই এমন নয় যে আপনি খুব কম কাজ করছেন বা আপনার কোনো কিছুর অভাব রয়েছে। অনেক সময় এর কারণ হলো নিজের অজান্তেই অনবরত অতিরিক্ত বোঝা বয়ে চলা। দায়িত্ব। সদা সতর্ক থাকা। অসম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত। অন্য মানুষের মেজাজ।

রক্ত পরীক্ষা শরীরের সঞ্চয়ের পরিমাণ মাপে। কিন্তু শরীর-মনের ওপর জমে থাকা বোঝা মাপতে পারে না।

পুরো চার্জ থাকা সত্ত্বেও ব্যাকগ্রাউন্ডে বিশটি অ্যাপ চলতে থাকলে ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অনেক ক্লান্ত মানুষই আসলে ভেতর থেকে শূন্য নন। বরং তাঁদের মনে একই সঙ্গে অনেকগুলো ‘উইন্ডো’ খোলা থাকে।

কখনো এর কারণ এমন কোনো আবেগ, যা ঠিকমতো প্রক্রিয়াজাত হয়নি। কখনো তা এমন বিশ্রাম, যা শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে না — এমন অবসর, যা আসলে আরেক ধরনের নীরব পরিশ্রম। ক্লান্তি একই, শুধু অ্যাপগুলো আলাদা।

ভালো দিনগুলোতেও আপনার মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে কী চলতে থাকে?

আজকের কাজ

এমন তিনটি জিনিসের নাম বলুন, যা আপনি এখন বয়ে বেড়াচ্ছেন অথচ কোনো দৈনন্দিন কাজের তালিকায় সেগুলোর জায়গা নেই। শুধু নামগুলো বলুন। নাম দিলেই কিছু উইন্ডো বন্ধ হয়।

যে ক্লান্তি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, কিংবা যার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ব্যথা বা জ্বর থাকে, অতীতের রিপোর্ট যেমনই হোক না কেন, তার জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।