প্রাত্যহিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার পর তিনি খুব ধীর গলায় বললেন, “সোমা, আমি আর একদমই আটকে রাখতে পারি না। বাথরুম যাওয়ার তাগিদ এলেই আমাকে দৌড়ে যেতে হয়।”

এরপর একটা লম্বা নীরবতা নেমে এলো। এই সমস্যার কারণ নির্ণয় করা আমার কাজ ছিল না। এ ধরনের উপসর্গের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসক বা পেলভিক হেলথ (pelvic-health) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। আমার কাজ ছিল এটা বোঝা যে, তাঁর দৈনন্দিন রুটিন কীভাবে তাঁর সুস্থতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

তাঁর কাজ ছিল খুব চাপের আর সব সময়ই ডেডলাইনের তাড়া থাকত। কাজ শেষ করার জন্য তিনি বাথরুম যাওয়ার তাগিদ চেপে রাখতেন, বারবার কাজের ব্যাঘাত এড়াতে জল কম খেতেন, দীর্ঘক্ষণ টানা বসে থাকতেন এবং নিজের অজান্তেই মানসিক চাপের বোঝা বয়ে বেড়াতেন।

এই চাপগুলো তাঁর সমস্যার চারপাশ ঘিরে থাকলেও, এগুলো তাঁর সমস্যার চিকিৎসাগত কারণ বলে দিতে পারে না।

আমি তাঁকে বললাম, “আমি শুধু আপনার ব্লাডারের দিকে তাকাচ্ছি না। আমি দেখছি আপনার পুরো শরীরের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে।”

উপযুক্ত চিকিৎসাগত নির্দেশনার পাশাপাশি, আমরা শ্বাসপ্রশ্বাস শান্ত করা, জল খাওয়ার অভ্যাস এবং মাঝে মাঝে সামান্য নড়াচড়া করা নিয়ে কাজ শুরু করলাম। তবে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির ওপর আমরা জোর দিয়েছিলাম, তা হলো শরীরের প্রতি তাঁর সম্মান ফিরিয়ে আনা।

সময়ের সাথে সাথে, তিনি আমাকে জানালেন যে তিনি নিজের ওপর আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ অনুভব করছেন। আর এটি তাঁকে স্বস্তি এবং আত্মবিশ্বাস দুই-ই এনে দিয়েছিল।

আমরা গাড়ির সার্ভিসিং করাই, ফোনে চার্জ দিই, অথচ আমরা আশা করি শরীরটা বিরামহীনভাবে চলতে থাকবে। আমার মতে, শারীরিক সহায়তা প্রায়শই শুরু হয় শরীরের প্রতি সম্মান ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে—তাকে কোনো যন্ত্রের মতো ব্যবহার না করে, সারাজীবনের সঙ্গী হিসেবে ভাবার মাধ্যমে।

বাথরুমে যাওয়ার তাগিদ দীর্ঘস্থায়ী হলে, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, ব্যথা, প্রস্রাবের সাথে রক্ত বা বারবার সংক্রমণ হলে অবশ্যই একজন উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই লেখাটিতে চিকিৎসার পাশাপাশি সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার কথা বলা হয়েছে, এটি কোনো রোগের নির্ণয় বা চিকিৎসা নয়।