চল্লিশ ও পঞ্চাশের কোঠায় থাকা কয়েকজন পেশাজীবী রোটেটর কাফের সমস্যা নির্ণয়ের পর আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ফিজিওথেরাপি নিচ্ছিলেন। নড়াচড়ার উন্নতি হয়েছিল, তবু তাঁরা স্বস্তি বোধ করছিলেন না।
এতে আমার মনে প্রশ্ন জাগল: কাগজে-কলমে কাঁধের উন্নতি হলেও কোন বিষয়টি তখনও তাঁদের আটকে রাখছিল?
তাঁদের কথা শুনে ও পর্যবেক্ষণ করে একটি সাধারণ যোগসূত্র খুঁজে পেলাম: ডেস্কে দীর্ঘ সময় কাটানো, কাঁধের আরামদায়ক নড়াচড়া খুব কম হওয়া, একটানা চাপ এবং অস্বস্তির কারণে নীরবে হারিয়ে যাওয়া ঘুম।
ব্যথা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। খারাপ ঘুম সেরে ওঠার ক্ষমতা কমাচ্ছিল। মানসিক চাপও চলছিল, আর শরীর সতর্ক হয়ে থাকছিল। এটি তখন আর শুধু কাঁধের গল্প ছিল না; সেরে ওঠার পুরো ব্যবস্থাই প্রভাবিত হচ্ছিল।
তাই আমি “কীভাবে কাঁধের শক্তি বাড়াব?” প্রশ্নটি দিয়ে শুরু করিনি। বরং জিজ্ঞেস করেছি, “স্বাচ্ছন্দ্যে নড়াচড়া করার আগে এই শরীরটির কী প্রয়োজন?”
তাঁদের চলমান চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি আমরা অপ্রয়োজনীয় টান কমানো, শ্বাসপ্রশ্বাস, সচেতনতা এবং আরামদায়ক নড়াচড়া দিয়ে শুরু করেছি। স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে নড়াচড়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে এনে তারপর শক্তি পুনর্গঠন করেছি।
আমি যে কথাটি মনে রাখি তা হলো: ব্যথা প্রায়ই গল্পের শেষ অধ্যায়, প্রথমটি নয়। শরীর আমাদের খেয়াল করার অনেক সুযোগ দেয়। আগের সেই সংকেতগুলোর সঙ্গে আবার যুক্ত হলে সেরে ওঠা শুধু উপসর্গের উপশমে সীমাবদ্ধ থাকে না; নিজের শরীরের সঙ্গে সম্পর্কটিও বদলে যেতে পারে।
রোটেটর কাফের সমস্যা নির্ণয় হয়ে থাকলে, ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে, স্পষ্ট দুর্বলতা, রাতে ব্যথা কিংবা নড়াচড়ার ক্ষমতা কমে গেলে যথাযথ চিকিৎসা বা ফিজিওথেরাপি মূল্যায়ন প্রয়োজন। এই গল্পটি চিকিৎসার পাশাপাশি সুস্থতা সহায়তার কথা বলে; এটি রোগনির্ণয় বা চিকিৎসা নয়।

